১৯৭২ সালের মার্চ মাসে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও প্রজাতন্ত্রী ভারত সরকারের প্রধানমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যে যৌথ ঘোষণার মাধ্যমে দুদেশের বিশেষজ্ঞ সমন্বয়ে অভিন্ন নদীর ব্যাপক জরিপ কার্যক্রম পরিচালন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে প্রকল্প প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণের বিস্তারিত প্রকল্প প্রণয়ন ও প্রধান প্রধান নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ প্রকল্পের উপর সমীক্ষা পরিচালন, উভয় দেশের জনগণের পারস্পরিক সুবিধা অর্জনের লক্ষ্যে এতদাঞ্চলের পানি সম্পদের ন্যায়সঙ্গত ব্যবহার এবং বাংলাদেশের সাথে ভারত সংলগ্ন এলাকায় পাওয়ার গ্রীড সংযোজনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থায়ী ভিত্তিতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন গঠিত হয়। উক্ত ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭২ সালের ২৪ নভেম্বর অংশগ্রহণকারী দুদেশের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রেখে সর্বাধিক যৌথ ফলপ্রসূ প্রচেষ্টার মাধ্যমে অভিন্ন নদীসমূহ থেকে সর্বোচ্চ সুফল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের স্ট্যাটিউট স্বাক্ষরিত হয়।

এ প্রেক্ষিতে, আন্তঃসীমান্ত নদীর পানির বন্টন ও ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ গঠন করে। যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ এর ৪৮ জনবল বিশিষ্ট একটি অনুমোদিত সেট আপ আছে।

 

যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ এর কার্যাবলী

১। আন্তঃসীমান্ত নদীর পানি বণ্টন, যৌথ ব্যবস্থাপনা, বন্যা সংক্রান্ত তথ্য-উপাত্ত বিনিময়, ভারতীয় এলাকায় প্রবাহ নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাঁধ ও নদীতীর সংরক্ষণমূলক কাজসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার লক্ষ্যে ভারতের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

২। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন চুক্তির আওতায় প্রতি বছর ১লা জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সময়কালে ভারতের ফারাক্কায় গঙ্গা নদীর যৌথ প্রবাহ পর্যবেক্ষণ ও পানি বণ্টন এবং বাংলাদেশের হার্ডিঞ্জ সেতুর নিকট যৌথ প্রবাহ পর্যবেক্ষণ সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম তত্ত্বাবধান;

৩। আন্তঃসীমান্ত নদী অববাহিকায় যৌথভাবে বন্যার ক্ষয়ক্ষতি প্রশমন, পানি সম্পদের আহরণ ও উন্নয়ন, নেপালে প্রবাহ     নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম এবং গবেষণা ও কারিগরী সংক্রান্ত বিষয়ে নেপালের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

৪। পানি সম্পদ ক্ষেত্রে সহযোগিতা, আন্তঃসীমান্ত নদী অববাহিকায় চীন কর্তৃক প্রবাহ নিয়ন্ত্রণমূলক কার্যক্রম, ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় বন্যা পূর্বাভাসের তথ্য-উপাত্ত বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধি বিষয়ে আলোচনার জন্য চীনের সাথে বৈঠক অনুষ্ঠান ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ;

৫। যৌথ নদী কমিশন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সেচ ও নিষ্কাশন কমিশন (ICID) এর বাংলাদেশের সচিবালয় হিসেবে কাজ করে। এছাড়া এই কমিশন ইন্টার-ইসলামিক নেটওয়ার্ক ফর ওয়াটার রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট এন্ড ম্যানেজমেন্ট (INWRDAM) এবং ওআইসি (OIC) এর পানি সম্পর্কিত বাংলাদেশের ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করে ।

১৯৭২ সালের মার্চ মাসে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশনের মন্ত্রী পর্যায়ে ৩৭টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পর্যায়েও অনেক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভাগুলোতে প্রধানত যেসব বিষয় আলোচিত হয়েছে তা নিম্নরূপঃ

     অভিন্ন/সীমান্তবর্তী নদীসমূহের পানি বণ্টন 

     ভারত হতে বন্যা সংক্রান্ত তথ্য উপাত্ত প্রাপ্তি 

     অভিন্ন/সীমান্তবর্তী নদীসমূহের বাঁধ ও তীর সংরক্ষণমূলক কাজ 

     ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্প 

     ভারতের টিপাইমুখ প্রকল্প

     ভারতের মহানন্দা ব্যারাজ

     ভারতীয় এলাকায় আন্তঃসীমান্ত নদীর উপর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম

     অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিষয়